ইন্টারনেট এখনো মৌলিক অধিকার না হওয়ায় আক্ষেপ
ইন্টারনেট দুনিয়ায় অংশীজনের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুক্রবার (৯ এপ্রিল) শুরু হয়েছে দুই দিনের ৫ম বিডিসিগ। বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরামের আয়োজনে বেলা তিনটায় শুরু হয় বিআইজিএফ বাংলাদেশ স্কুল অব ইন্টারনেট গভর্নেন্স। বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরামের সভাপতি হাসানুল হক ইনু সিগের সূচনা করেন।
এসময় ইন্টারনেট এখনো মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত না হওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। এজন্য বৈশ্বিক পর্যায়, আঞ্চলিক পর্যায়, জাতীয় পর্যায় এবং প্রযুক্তিগত বিষয়ে একটি পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে মত দেন ইনু।
তিনি বলেন, উন্নয়নের জন্য আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা গড়ে তোলা দরকার। একটি ডেটা সুরক্ষা আইন প্রয়োজন। ওয়ার্ল্ড সামিট অন ইনফরমেশন সোসাইটি এর অ্যাকশন প্ল্যান অনুসারে সকল ধরণের বৈষম্য দূর করা গুরুত্বপূর্ণ। একটি ইনক্লুসিভ মিডিয়া তৈরির জন্য আপস্কিলিং, রিস্কিলিং করা দরকার। আমাদের মিস ইনফরশেন, ডিসইনফরশমশন এবং ম্যাল ইনফরমেশন দূর করা জরুরি।
অধিবেশনটি সঞ্চালনা করেন বিআইজিএফ-এর সেক্রেটারি-জেনারেল মোহাম্মদ আবদুল হক আনু। অনুষ্ঠানে জ্ঞানের উন্মেষ ঘটানো, জ্ঞান সংরক্ষণ, জ্ঞানের প্রচার এবং জ্ঞানের ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিএনএনআরসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম বজলুর রহমান। বিআইজিএফ সরকার ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নীতি পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সংলাপ, আলোচনার আয়োজনের মাধ্যমে বিডিসিগ স্টেকহোল্ডারদের সক্ষমতা তৈরি করতে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে বিআইজিএফ ডিজিটাল বাংলাদেশকে সহযোগিতা করছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন নেপাল ইন্টারনেট গভর্নেন্স ইনস্টিটিউট এর সিইও বাবু রাম আরিয়াল।
এশিয়া প্যাসিফিক- এপিআরজিএফ-এর ভাইস-চেয়ারপারসন আনজু মঙ্গল বলেন, দ্রুত-গতির ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের মাধ্যমে ডিজিটাল বিভাজন কমাতে কাজ করছে বাংলাদেশ। আমাদের একসাথে কাজ করার উপায় খুঁজে বের করতে হবে।
এপিএনসির সিনিয়র উপদেষ্টা জয়েস চেন উল্লেখ করেন, ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ এবং যা জীবন-যাত্রার মান উন্নত করছে। ভবিষ্যতের জন্য, উন্নয়নের জন্য ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
অপরদিকে ডিজিটাল বিভাজন কমাতে এবং সংযোগের আওতাধীন নয় এমন সমস্ত মানুষকে সংযুক্ত করতে এখনো দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে হবে বলে মত দেন ইন্টারনেট গভর্নেন্স (এপিএসআইজি) এর এশিয়া প্যাসিফিক স্কুল এর চেয়ারম্যান সতীশ বাবু।
এছাড়াও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সাথে অভিযোজনের জন্য আমাদের দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বারোপ করেন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) এর সভাপতি এম আমিনুল হাকিম।
আইকান ইন্ডিয়ার চিফ, মিঃ সমীরন গুপ্ত ইন্টারনেট, আইকান ও ইন্টারনেটের মৌলিক বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি ইন্টারনেট গভর্নেন্স এবং গ্লোবাল ইন্টারনেটের জন্য আইকান এর ভূমিকা এবং অলাভজনক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলি আইকান এর অংশীদার হিসাবে কীভাবে কাজ করতে পারে এবং কীভাবে ইন্টারনেটে বিভিন্ন ভাষা ব্যবহার করা যায় এবং সাইবার সিকিউরিটিতে আইকান কী ভূমিকা পালন করতে পারে তা নিয়েও তিনি আলোচনা করেন।
ডিজিটাল সুরক্ষা সংস্থা-এনসিআইআরটির প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ (ডিজিটাল সুরক্ষা ও কূটনীতি) তাওহিদুর রহমান বলেন তথ্য সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডেটা গভর্নেন্স, ডেটা স্টোরেজ প্রক্রিয়া সহযোগিতা করে। ডেটা অক্সিজেন হয়ে উঠছে, বিশেষত কোভিড-১৯ মহামারীতে। কিন্তু সরকার এই তথ্যগুলির মালিক।
ভেস্টর লিমিটেডের সিইও সাইফ রহমান বলেন, সাইবার সিকিউরিটি, ডেটা প্রোটেকশন এবং গোপনীয়তার বিষয়টি যেখানে সাইবার-অপরাধীরা জনগণের কাছে আর্থিক ও বিভিন্ন ধরণের ব্ল্যাকমেইলের জন্য ব্যবহার করছে এবং সন্ধানের জন্য তারা ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। এগুলোকে প্রতিরোধ করার জরুরি।
দ্য কম্পিউটার লিমিটেডের (টিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক খোন্দকার আতিক ই রব্বানী ব্লকচেইন প্রযুক্তি সম্পর্কে আলোচনা করেন। তিনি বলেন ব্লক চেইন বিভিন্ন স্তরে ব্যবহার করা সম্ভব। ব্লকচেইনের সাহায্যে দ্রুত লেনদেন করা যায়। অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয় করা যায়। সম্পন্ন লেনদেনগুলি স্বচ্ছ এবং তাই এগুলি যে কোনও জায়গা থেকে ট্র্যাক করা সহজ।